মিউজিক ডে‑র স্মৃতি ও ব্যাড ড্যুবেনের দিনগুলি

সম্প্রতি আমাদের গ্রুপের একজনের আমন্ত্রণে মিউজিক ডে সেলিব্রেশনে গিয়ে ছেলেদের উৎসাহ দেখে মন ভরে গেল। সেই মুহূর্তে হঠাৎই চার বছর আগের আমার জার্মানির অভিজ্ঞতা তরতাজা হয়ে উঠল।

আমি এক মাস কাটিয়েছিলাম জার্মানির এক দূরবর্তী গ্রামে—Bad Düben। নামের শুরুতে Bad মানে স্পা বা বাথ, আর সত্যিই গ্রামটি ছিল উষ্ণ জলের ধারায় ঘেরা। দুই পাশে এলবে আর মুল্ডে নদী, মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চার্চ যেন গ্রামের হৃদয়। সপ্তাহান্তে সেখানে চলত সফট বা হার্ড রক প্রোগ্রাম—শুক্রবার থেকে রবিবার অবধি।

বারবিকিউ আর স্থানীয় বিয়ারের সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে রক মিউজিক—মনে হতো যেন এ এক স্বপ্নের দেশ। দূষণবিহীন বাতাসে বৃষ্টির শব্দও ছিল নিঃশব্দ, যেন প্রকৃতি নিজেই সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজছে।

একদিন মজার ঘটনা ঘটল। বড় বড় ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে প্রোগ্রাম দেখছিলাম। হঠাৎ চোখ গেল এক জার্মান বন্ধুর দিকে—দেখি তিনি উদ্বিগ্নভাবে কাউকে খুঁজছেন। পরমুহূর্তে দেখি আমাদের গ্রুপের পেছনে লুকোচুরির চেষ্টা করছেন। পরে জানা গেল, সামনের দিকে দুটি টিনএজার তরুণী আনন্দে মেতে উঠেছিল বিয়ার আর সিগারেট সহযোগে—আর তিনি ছিলেন তাদের বাবা। সম্ভাব্য সংঘাতের আশঙ্কায় তার টেনশন এত বেড়ে গিয়েছিল যে পরদিন কাজে অনুপস্থিত!

এ যেন আরেক ধরনের লুকোচুরি—অল্প লোকের জায়গায় বাবা‑মাকে প্রতিনিয়ত ছেলেমেয়েদের কর্ম আড়াল করতে হয়। আমাদের দেশে ভিড়ের মধ্যে হারিয়ে যাওয়ার ভয় নেই, তাই এই চাপও নেই।

আজকের মিউজিক ডে‑র উচ্ছ্বাস আমাকে আবার ফিরিয়ে দিল সেই ব্যাড ড্যুবেনের দিনগুলিতে—যেখানে প্রকৃতি, ইতিহাস আর সুর মিলেমিশে তৈরি করেছিল এক অনন্য অভিজ্ঞতা।

Comments

Popular posts from this blog