একদিন ছিল যখন— উইন্ডোজ ছিল ঘরের ছোট্ট জানালা, অ্যাপ্লিকেশন মানে কাগজে লেখা খেলা। কীবোর্ড ছিল পিয়ানো, মাউস ছিল প্রাণী, ফাইল ছিল অফিসের জরুরি কাগজখানি। হার্ড ড্রাইভ মানে ক্লান্তিকর পথযাত্রা, কাট করতাম ছুরি হাতে, পেস্ট করতাম আঠার সাথে। ওয়েব ছিল মাকড়সার ঘর, ভাইরাস ছিল জ্বর, অ্যাপল আর ব্ল্যাকবেরি ছিল কেবল ফলের ঘর। উইন্ডোজ ছিল ঘরের ছোট্ট জানালা, অ্যাপ্লিকেশন মানে কাগজে লেখা খেলা। কীবোর্ড ছিল পিয়ানো, মাউস ছিল প্রাণী, ফাইল ছিল অফিসের জরুরি কাগজখানি। হার্ড ড্রাইভ মানে ক্লান্তিকর পথযাত্রা, কাট করতাম ছুরি হাতে, পেস্ট করতাম আঠার সাথে। ওয়েব ছিল মাকড়সার ঘর, ভাইরাস ছিল জ্বর, অ্যাপল আর ব্ল্যাকবেরি ছিল কেবল ফলের ঘর।
Posts
Showing posts from July, 2026
- Get link
- X
- Other Apps
মিউজিক ডে-র স্মৃতি সম্প্রতি আমাদের গ্রুপের একজনের আমন্ত্রণে মিউজিক ডে সেলিব্রেশনে গিয়ে ছেলেদের উৎসাহ দেখে বেশ ভালো লাগল। সেটা হঠাৎই চার বছর আগের আমার জার্মানির অভিজ্ঞতাকে তরতাজা করে দিল। আমি এক মাস কাটিয়েছিলাম জার্মানির এক দূরবর্তী গ্রামে। গ্রামের নাম ছিল Bad Düben —যদিও তার মধ্যে কোনো Bad ছিল না, কারণ জার্মান ভাষায় Bad মানে স্পা বা বাথ। গ্রামটিতে গভীর অরণ্যের মধ্যে অনেকগুলো গরম জলের ধারা ছিল। দুই দিক ঘিরে রেখেছিল এলবে আর মুল্ডে নদী। মাঝখানে ছিল একটি চার্চ, যা ছিল কেন্দ্রবিন্দু। সপ্তাহান্তে সেখানে চলত সফট বা হার্ড রক প্রোগ্রাম—শুক্রবার থেকে রবিবার অবধি। বারবিকিউ আর স্থানীয় বিয়ারের সাথে সফট রক মিউজিক, আর ঝিরঝিরে বৃষ্টি—মনে হতো যেন এ এক স্বপ্নের দেশ। দূষণবিহীন বলে বৃষ্টি পড়ত নিঃশব্দে। একদিন মজার ঘটনা ঘটল। বৃষ্টি থেকে বাঁচতে বড় বড় ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে প্রোগ্রাম দেখছিলাম। হঠাৎ চোখ গেল এক জার্মান বন্ধুর দিকে—দেখি তিনি খুব উদ্বিগ্নভাবে কাউকে খুঁজছেন। পরমুহূর্তে দেখি আমাদের গ্রুপের পেছনে লুকোচুরির চেষ্টা করছেন। ভাবলাম, এ কেমন খেলা, তাও এই বয়সে! কলিগরা ইশারা করল সামনের দিকে—দুটি টিনএজ...
- Get link
- X
- Other Apps
আমার বাবার গল্প—ধর টিকি মার বেল আমাদের বাড়ির অধিষ্ঠাত্রী দেবতা ছিলেন শ্রীশ্রী নন্দনন্দন জিউ। ঠাকুরঘরের দুই পাশে দুটো বিশাল মহীরুহ ছাতার মতো ঘিরে রেখেছিল—একটি বেলগাছ আর একটি সোনালি রঙের চাঁপা গাছ। সেই বেলগাছ নিয়েই আজকের গল্প। কিছুটা আমার অভিজ্ঞতা, অনেকটাই বাবার অবদান। ছেলেবেলায় বিছানায় শুয়ে শুয়ে বেল পড়ার শব্দ শুনে খুব ইচ্ছা করত কুড়িয়ে আনতে। কিন্তু বাবা আমাদের ব্রহ্মদত্তির ভয় দেখিয়ে সে আশায় জল ঢেলে দিতেন। মা বলতেন, ঠাকুর না জাগা অব্দি ওখানে যাওয়া যাবে না। আমরা অপেক্ষা করতাম পুরোহিত আসবেন, স্বর্ণচাঁপা ফুল তুলতে তুলতে ঠাকুরকে ঘুম ভাঙাবেন—“জাগো বৃকভানু নন্দিনী, ওঠো যুবরাজে।” আহা, কি মধুর সেই কণ্ঠস্বর! তার সম্মোহনী শক্তি আমাদের সকাল সকাল ঠাকুরঘরের দিকে টেনে নিয়ে যেত। ঘণ্টা বাজানো, স্তব পাঠ, প্রসাদের বাতাসা খেয়ে তবে বাড়ি ফেরা—মোটামুটি এইভাবেই সকাল শুরু হত। এবার বাবার ব্রহ্মদত্তির গল্পে আসা যাক, যা বড় হয়ে শুনেছি। আমার দাদুর সকালের প্রাতরাশ ছিল একটা আস্ত পাকা বেল, যা তিনি কাকডাকা ভোরে ঠাকুরঘরের পাশের বেলগাছ থেকে কুড়িয়ে পেতেন। একবার বাবা ও কাকার নজরে এল দাদু কথায় কথায় রাগ করছেন। দিদিমার কা...
- Get link
- X
- Other Apps
আমাদের দুপুরবেলা—ফলসা গাছের সাথে আমার আগের দুটো গল্পের মূল চরিত্র ছিল দুটি গাছ—বাঁশ ও বেল। এবারেও তার অন্যথা হবে না। গাছ অকৃপণ হাতে তার সুমিষ্ট ফল উজাড় করে দিত—আম, জাম, জামরুল, কাঁঠাল, সবেদা, দালিম আর কত কী। আর স্বর্ণচাঁপা, গন্ধরাজ, বেলফুলের গন্ধে মাতোয়ারা করে রাখত বাড়ির প্রাঙ্গণ। মা বলতেন, দরজা বন্ধ করে রাখো, না হলে বেলফুলের উগ্র গন্ধে সাপ আসতে পারে। স্বর্ণচাঁপা ফুল তোলার অধিকার ছিল কেবল পুরোহিত মশাইয়ের, কারণ সেটা ছিল একেবারে মন্দিরের ছাদে, আর সেখানে আমাদের প্রবেশ নিষেধ। ভোরবেলা পুজোর আগে যখন তিনি ফুল তুলতেন, চারিদিকে এক সুমিষ্ট গন্ধে স্বর্গীয় পরিবেশ সৃষ্টি হত। এছাড়াও গাছ তার রহস্যময়তা আর আচ্ছাদন দিয়ে আমাদের ঘিরে রাখত। মনে পড়ে, ঢিল মেরে অনেক চেষ্টা করে যদি একটা আম বা জামরুল মাটিতে পড়ত, খুশির ঠিকানা থাকত না। সে খুশির কাছে পরীক্ষায় প্রথম হওয়া কিছুই নয়। এবারে আমাদের গল্পে ফেরা যাক। গ্রীষ্মাবকাশ চলছে, লম্বা দুপুরবেলা। সকাল কেটে যেত আড্ডা মেরে, সাঁতার কেটে। কিন্তু দুপুরবেলা ছিল অন্যরকম। আমাদের ছিল এক ডানপিটে পিসি, যদিও বয়সে প্রায় আমাদের সমান। দুপুর হলেই তার সাথে আমরা ছুটে যেতাম বাড়ির...
- Get link
- X
- Other Apps
গল্পের গরু গাছে ওঠে—এটা আমরা জানি। কিন্তু সত্যি ঘটনার কাহিনি যে আমাকে গাছের মগডালে তুলে মই কেড়ে নেবে, তা একেবারেই অপ্রত্যাশিত ছিল। তবে মন্দ লাগেনি। নিচের দুঃখ ফেলে এসে কিছুটা সময় কাটানো গেল কাঠবিড়ালি, কাঠপিপড়ে, চড়ুই, চন্দনা আর ময়নাদের রাজত্বে। গাছটি যদিও ছিল আমাদের বাড়ির গণ্ডির বাইরে, তার আসল শাখাটি বিস্তার করেছিল আমাদের বাড়ির চৌহদ্দির মধ্যে। বাড়ির পিছনদিকে বসন্ত থেকে সারা গরমকাল হলুদ হয়ে থাকত তার ফুলে। বাবা যেদিন তাড়াতাড়ি কাজে বেরিয়ে যেতেন কলকাতায়, মা ওই ফুলের চচ্চরি বানিয়ে রাখতেন চার ছেলেমেয়ের জন্যে ভাতের সাথে। তার পরে আসত ডাঁটার সময়। তখন দুবেলা ডাঁটা চিবোতে চিবোতে প্রাণান্তকর অবস্থা! এবার ঘটনায় আসা যাক। আগেই বলেছি, গাছটা আমাদের ফল-ফুল জোগালেও আসল মালিক ছিলেন পাশের বাড়ির এক বুড়ি। টালির চালের ঘরে বাঁধা ছিল তার জীবন। বুড়ির চুল থেকে নেমে আসা ঝুড়ি, দাওয়ায় বসে মুড়ি খেতে খেতে যখন প্রবচন শুরু করতেন, আমরা দরজায় খিল লাগিয়ে রাম নাম স্মরণ করতাম। একদিন মা বললেন, দু-চারটে ডাঁটা ছাদ থেকে পেড়ে আনতে। ভোরবেলা আঁকশি দিয়ে ডাঁটা টানতেই ছোটো একটা শাখা মর্মরিয়ে পড়ল বুড়ির টালির চালে। ব্যাস! বুড়ি চিৎক...