Posts

চোরাস্রোত: চোরবাগানের চোরাস্রোত গায়, উন্মত্ত জেন-জি, বৃষ্টি, কুয়াশা ধায়। অর্ধেক প্রেম, অর্ধেক অবক্ষয়, নিমজ্জিত শূন্যতার অতল বিন্যাসে ভিড়ের বিজ্ঞানে একাকীত্বের জয়। চোরাগলির নিয়ন-নির্বাসনে নামহীন কান্নার অবশ দাগ, কে যেন ছিল, কে যেন নেই, স্রোতের ক্ষণিক ক্রাউড ডায়নামিক্সে রেখে যায় দহন-অনুরাগ। আলো নেভে, শব্দ নয়, অনিদ্র কোলাহল, অবিরাম চলাচল; রাতের কার্নিশ বেয়ে ঘনীভূত হয় খলনায়কের ছল।
  ভূতনির চর ভূতনির চর ভাঙে প্লাবন, দাঁড়-টানা অস্থির আকাশে, ঝরে-পড়া অশ্রুর মতো হাহাকারী শ্রাবণ! ত্রাণের অলিন্দে অন্নপূর্ণার করুণায়, যোজনার ঘর থেকে যোজন দূরে, অশুভ বিনাশের প্রতীক্ষায় ক্ষুধার রাত্রি ভোর হয়। ভূতনির চর ভাঙে প্লাবন, শক্তিরূপেণ সংস্থিতা নদীর বুকে, হাঁটুজলে মাতৃরূপেণ স্তব পাঠ, "যা দেবী সর্বভূতেষু..." দেবীর আগমনে দোলে কাশবন।
বৃন্দাবন মহাকাব্য: রাধাবল্লভ লীলাক্ষেত্রের আঙিনায়, যুগল মিলনের গোপন মঞ্চে— অভিমানী রাধার নীরবতা, দ্বন্দ্বে জড়ায় এক অনন্ত মহাকাব্য। অর্ধচন্দ্রের গোপন মায়া, বাঁকেবিহারীর রহস্যময় হাসি, গোপীঘাটে পথিকের পরিক্রমার পদধ্বনি, প্রেম মন্দিরে লাস্য রসে ভাসি। সোনার তালগাছে কাকের হাহুতাশ, মদনমোহনে আবিষ্ট গোপীর কান্না, জনারন্যে অশোভন তরঙ্গের উচ্ছ্বাস তীর্থের আকাশে প্রতিফলিত আয়না।
জয়-পরাজয়ের মাপজোক ‘মন কি বাত’ ব্যানারে ‘কাম কি বাত’, পাথরবাজ পথে জেন জি’র সাথ, রাজধানীর আঙিনায় কুস্তি-কাবাডি, টিয়ার গ্যাসে ভেজা দিন-রাত, রক্তিম পতাকার নিচে অস্থির প্রভাত। সদনের ঘনঘটা, আলো ঝলমলে নীড়ে, দাড়িবালা কবি আবার আসিবে ফিরে, মাপজোক চলে বিপন্নতায়, জয়, পরাজয় বিষণ্নতায়, কখনো ভোকাল, কখনো নীরবতায়। নিদ্রাহীন রজনী, ভাইকিং হয়ে, বুদ্ধের ধ্যানের ছায়ায় ঢেকে, হালান্ডে মিশে যায়— অস্থির গ্যালারি জুড়ে অভিমানী শ্রাবণ ঝরে পড়ে।
  স্মৃতির অলিন্দে তবুও তুমি বিভ্রম গড়ো ধ্বনির অলিন্দে। তবুও অতীতের সুরে আমি জেগে উঠি, নিঃসঙ্গতার মৃদু সংযোগে শব্দহীন কবিতারা বয়ে চলে সৃষ্টির সুন্দরতম ছবির দিকে। প্রথম দেখা, অগ্নিশিখা— কুয়াশা ঢাকা হ্রদ, জঙ্গলের ফিসফিসে। সব কিছুর ছায়ায় তোমার ইশারা, তুচ্ছ সব প্রশ্ন ঝরে পড়েছিল মৌনতায়। আহা, সেই মুহূর্তগুলো— চুপিচুপি ফিরে আসে পুকুরপারের গল্পে, রাসমাঠের ধূলিধূসর প্রান্তে, গঞ্জের হাটের কোলাহলে। নিত্যনতুন স্মৃতি রচনার প্রস্তুতিতে।
  মিউজিক ডে‑র স্মৃতি ও ব্যাড ড্যুবেনের দিনগুলি সম্প্রতি আমাদের গ্রুপের একজনের আমন্ত্রণে মিউজিক ডে সেলিব্রেশনে গিয়ে ছেলেদের উৎসাহ দেখে মন ভরে গেল। সেই মুহূর্তে হঠাৎই চার বছর আগের আমার জার্মানির অভিজ্ঞতা তরতাজা হয়ে উঠল। আমি এক মাস কাটিয়েছিলাম জার্মানির এক দূরবর্তী গ্রামে— Bad Düben । নামের শুরুতে Bad মানে স্পা বা বাথ, আর সত্যিই গ্রামটি ছিল উষ্ণ জলের ধারায় ঘেরা। দুই পাশে এলবে আর মুল্ডে নদী, মাঝখানে দাঁড়িয়ে থাকা একটি চার্চ যেন গ্রামের হৃদয়। সপ্তাহান্তে সেখানে চলত সফট বা হার্ড রক প্রোগ্রাম—শুক্রবার থেকে রবিবার অবধি। বারবিকিউ আর স্থানীয় বিয়ারের সঙ্গে ঝিরঝিরে বৃষ্টির মধ্যে রক মিউজিক—মনে হতো যেন এ এক স্বপ্নের দেশ। দূষণবিহীন বাতাসে বৃষ্টির শব্দও ছিল নিঃশব্দ, যেন প্রকৃতি নিজেই সুরের সঙ্গে তাল মিলিয়ে বাজছে। একদিন মজার ঘটনা ঘটল। বড় বড় ছাতার নিচে আশ্রয় নিয়ে প্রোগ্রাম দেখছিলাম। হঠাৎ চোখ গেল এক জার্মান বন্ধুর দিকে—দেখি তিনি উদ্বিগ্নভাবে কাউকে খুঁজছেন। পরমুহূর্তে দেখি আমাদের গ্রুপের পেছনে লুকোচুরির চেষ্টা করছেন। পরে জানা গেল, সামনের দিকে দুটি টিনএজার তরুণী আনন্দে মেতে উঠেছিল বিয়ার আর সিগারেট সহযো...
ক্যালিফোর্নিয়া মায়া:   চেরি, বেরি, আনারকলি,   পাহাড়ে নীলি লিলি,   নরম রোদে সোনালি দিনগুলি,   আলো-আঁধারির ঝিলিমিলি,   সান্তা মনিকার পিয়ারে কি তুই মৎস্যকন্যা হলি ?   নোবেল পার্কের নিরালা কোন,   ভাসমান হলুদ প্রজাপতি মন,   পাম ট্রির শিরশিরানি,   ফোয়ারা জলের ফিসফিসানি,   কাঠবেড়ালির রাজত্বে মায়াজাল।   আল্টো গোলাপের সকাল,   মীরামার থেকে সীগাল,   সাদা-কালো থেকে রঙিন দিন,   মোহিতো, লাইম আর জিন,   স্পিডবোটের ধামাল।   প্রশান্ত সাগরপারের রাত,   লক্ষ বালুকণার জোনাকি সাথ,   সানসেট ক্লিফের রক্তিম আভা,   যুগল প্রেমের লাভা,   ঢেউয়ের মাঝে শক্ত করে হাতে হাত।   কুয়াশার রহস্যময় দিন,   সী-লায়নের শীতল জিন,   পয়েন্ট লোমার লাইটহাউস ছায়া,   নেভি পিয়ারের জলদেবীর কায়া,   বাহুপাশে — ক্যালিফোর্নিয়া মায়া।   চেরি, বেরি, আনারকলি, পাহাড়ে নীলি লিলি, নরম রোদে সোন...