অনেক দিন থেকেই ইচ্ছা ছিল এমন এক দুঃসাহসিক কাজ করার, যা আগে কখনও চেষ্টা করিনি। আমার কল্পনায় সেটা ছিল পাহাড়ে ওঠা বা জঙ্গলে ঘোরা। কখনও ভাবিনি যে সেটা হবে সান দিয়েগোর সি‑ওয়ার্ল্ডের ভেতরেই! ডলফিনের প্রদর্শনী দেখতে গিয়েই হঠাৎই সেই সুযোগ সামনে এলো। সি‑ওয়ার্ল্ড মানেই তো সামুদ্রিক প্রাণীর জগৎ—ডলফিন, অরকা, সি‑লায়ন। ওখানে প্রাণী দেখাই স্বাভাবিক। কিন্তু জেনারেশন জেড মানে আমার ছেলের সাথে থাকলে স্বাভাবিকের বাইরে কিছু ঘটবেই—ওদের ছটফটে মন কখন যে কোথায় নিয়ে যায়, বলা মুশকিল। না হলে হঠাৎ করে মান্তা রোলার কোস্টারের সামনে দাঁড়িয়ে বলতো না: “চলো, তোমার একটা স্বপ্ন পূরণের দিন এসে গেছে।” বয়সের তোয়াক্কা না করেই লাইনে দাঁড়ালাম। নজরে এলো—একটা উচ্চতা মাপার দণ্ড আছে, কিন্তু বয়সের কোনো দণ্ড নেই। সমবয়সী এক পক্ককেশ মেক্সিকানকে লাইনে দেখে আশ্বস্ত হলাম, যাক, কেউ তো আছে আমার মতো দুঃসাহসিকতাপ্রিয়। গাম চিবোতে চিবোতে ঘাড় নেড়ে ইঙ্গিত দিলো—“আমিও আছি।” তার ঘাড়ে গর্দানে চেহারা নজরে এলেও তখন বুঝিনি, শুধু সাহসে ভর দিয়ে পাখা মেললেই চলবে না, একটা ভালো ঘাড়ও দরকার! তখনও জানতাম না আমার প্রদাহযুক্ত ঘাড়কে আরও কত ক...
Posts
- Get link
- X
- Other Apps
অশথের নীরব মহাকাব্য: অশথ এক পায়ে তিন হাজার সাল ত্রেতা–দ্বাপর–কলির সৃষ্টিচক্রের জ্ঞান তিন কন্যায় শের হুয়া শেরম্যান। চলমান অর্জুন চলে অশথের খোঁজে চঞ্চলতা স্থিরতাকে জড়িয়ে থাকে কিছুক্ষন। ইতিহাস ভুলে প্রেমহীন মন বৃক্ষ বলয়ে অজান্তেই সৃষ্টি করে চলেছে খরা, বৃষ্টি, আগুন, সাম্রাজ্যের উত্থান–পতন— যুগ যুগ ধরে বহমান মানুষের ভুলে যাওয়া মূল্যবোধের এক নীরব মহাকাব্য।
- Get link
- X
- Other Apps
বৃষ্টিভেজা স্বীকারোক্তি: থ্রী রুটস্-এর নিরালা কুঞ্জে পুঞ্জীভূত মেঘের সারি, কুঞ্চিত কালো এলোচুল হয়ে উড়ে যায়— বৃষ্টি ঝরায় না তবু। ঠিক তেমনই এক মানুষ মেঘ নিয়ে এক অভিমানী মেয়ের মুখভার— যেন অনুচ্চারিত বৃষ্টির প্রতিশ্রুতি, যা নামতে চায়, অথচ নামতে পারে না। অপেক্ষা জমে থাকা নিঃশব্দ প্রহরে— সান দিয়েগোর নোনা বাতাস আচম্বিতে ঝিরঝির ধারায় ভিজিয়ে দেয় দু’টি স্বীকারোক্তির নিঃশব্দ দোলাচল।
- Get link
- X
- Other Apps
কস্টকো তে কষ্ট, চলে যাই রস গো এটা চাই ওটা চাই বাবু আছে তাই তো, রেনেসাস এর দরজায় মারি এক ঢুঁ ত্রিভুজের খোঁজে মুগুর ভাজি বহু। দুমদাম চলে যাই স্প্রাউট এর পাশেতে হাই ফাই কারি খাই থাইদের বসতে মেঘেদের গুঞ্জনে ডেল মার্ আছে যে প্যাসিফিক বাতাসে ভাবনারা কাঁপে যে নোবেল এর নিরালায় ধরা সেই হাসিটি কিউবিস্ট জ্যামিতির যেন ভাঙা বাঁশিটি। পৃথিবী এক হলেও অনেকটাই অন্য আর এক পৃথিবী বুঝি কতটা বিপন্ন দুই পৃথিবী পাশাপাশি হাঁটে— একটি অস্তিত্বে, অপরটি ডিসকাউন্টে।
- Get link
- X
- Other Apps
বর্ডার পেট্রল থেকে পর্দার বেট্রল— আইস–কাস্টমসের ব্যঙ্গে জমে ওঠা ক্ষীর। কিউবার ভাঙা জ্যামিতি ছড়িয়ে বয়স্কা বিমানসেবিকার আভোকাডো–টোস্ট মাখা ঠোঁটে স্টার ফ্রাইয়ের ভিড়। লা জোলার ঢেউয়ের মানচিত্রে নৌ– নীলের গভীরে জমে ওঠে এক নীরব উত্তেজনা। স্পেশাল এক উড়ানে ভর করে নতুন নকশার দীর্ঘ পথচলা— অলস রোদে ভিজে থাকা নেভি সীল জানালায় শোনে ইরানি যাত্রাপালা। টরটিলা আর টাকোর গন্ধে গ্যাসল্যাম্পের আলোয় জেগে ওঠে শহর। প্যাসিফিক বাতাসে ভেসে আসে সীমান্ত–গল্পের লবণাক্ত উষ্ণতা। যাত্রী বোঝে— প্রতিটি যাত্রাই শেষমেশ পৌঁছে দেয় নিজেরই এক চেনা উপকূলে।
- Get link
- X
- Other Apps
মা – প্রতীক্ষার দীপশিখা বোসপুকুর থেকে বাগুইহাটি লজঝড়ে বাসের অচেনা ভিড়ে, মায়ের প্রতীক্ষার একটি ঘন্টা, শীর্ণ কম্পিত হাতে চা, ওমলেট কখনো বা ভাজা চিড়ে। চিৎকার চ্যাঁচামেচি হৈ চৈ, মনে পড়ে মাঝ রাতে দিন ওই। হিমোগ্লোবিন, বি টুয়েলভ কমলেই, কাজের লোক, রাঁধুনি সব কই। হুল্লোড় ছুটে চলে কসবা টু কালীঘাট, বেহালা তো বালিঘাট, খেলিছ এ বিশ্বলয়ের মধুর আওয়াজ, থেমে যায় গুঞ্জন, এক ঘর গুরুজন। উকিল দাদু আছে কালীঘাট পাড়ে, সব কটাকে আজ জেলে ঢোকাবো রে, ডাক্তার পরেশান, কথার ফুলঝুরি হাসির আড়ালে এখন শুধু শূন্য সুরই। মা এখন বিরানব্বই, তবু দীপ জ্বলে, শীর্ণ হাতে আশীর্বাদ ছড়িয়ে চলে।
- Get link
- X
- Other Apps
যুদ্ধযন্ত্রে যবনিকা: কামিকাজে করে কাজ শাহীন ছোটে শাহীনবাগ টর্পেডোয় আইরিশ ভঙ্গ হরমুজে তরমুজ তরঙ্গ তেলকূপে তপ্ত ফুজাইরা ইরানে ইরানি ইশারা। রাডার ঘুরে রামাদি মিসাইল ছোটে মানামা ড্রোনের আগুনে শিরাজ মিনাবে বিলাপ বিরাজ। তেহরানে তীরের তপকুণ্ড গালফে গর্জন প্রচণ্ড খুররাম খুরাফাতি মাশুল রক্তের ঋণ উশুল যুদ্ধযন্ত্রে নামে যবনিকা।